ভ্রূণতত্ব সম্পর্কে কোরআন ও বিজ্ঞান এর আলো

Welcome to my profile Follow me for more information of the Islamic and Veritas subject.
এই পোস্টটি থেকে আপনারা জানতে পারবেন:-
১.ভ্রূণের সুরক্ষা কোরআন ও বিজ্ঞান এর আলো:
২.ভ্রূণের পর্যায়সমূহ
৩.শ্রবন ও দৃষ্টিশক্তির অনুভূতিশ্রবন ও দৃষ্টিশক্তির অনুভূতি


১.ভ্রূণের সুরক্ষা কোরআন ও বিজ্ঞান এর আলো:
মহান কুদরতে অধিকারী আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন
‘তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভে পর্যায়ক্রমে একের পর এক ত্রিবিধ অন্ধকারে।সূরা আয যুমার -৬
অধ্যাপক কেইথ মুরের মতে, কোরআনে উল্লেখিত অন্ধকারের তিনটি পর্দা বলতে বুঝায়ঃ
১।মাতৃগর্ভের সম্মুখ দেয়াল
২।জরায়ুর দেয়াল
৩।জরায়ুতে ভ্রূণকে আবৃতকারী গর্ভফুলের আভ্যন্তরীণ অতি পাতলা পর্দা।


২.ভ্রূণের পর্যায়সমূহ :
আল্লাহ বলেনঃ
“আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি।এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি।অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিণ্ডে পরিণত,এরপর সেই মাংসপিণ্ড থেকে হাড় সৃষ্টি করেছি,অতঃপর হাড়কে গোশত দ্বারা আবৃত করেছি।অবশেষে তাকে এক নতুন সৃষ্টিরূপে দাঁড় করিয়েছি।নিপুণতম সুষ্টির্কতা আল্লাহ কত কল্যাণময় ? সূরা আল মোমিনূন- ১২-১৪
এ আয়াতদ্বয়ে মহান স্রষ্টা বলেন তিনি মানুষকে ক্ষুদ্র পরিমাণ তরল পদার্থ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং একে এক সুরক্ষিত বিশ্রামের স্থানে সংরক্ষিত করেছেন।এ অর্থ বুঝানোর লক্ষ্যে তিনি আরবী শব্দ (আরবী)ব্যবহার করেছেন। জরায়ু সর্বদাই পেছন দিক থেকে মেরুদণ্ড দ্বারা সংরক্ষিত। মেরুদণ্ড আবার পেছনের মাংসপেশী দ্বারা সমর্থিত।তাছাড়া ও ভ্রূণ গর্ভফুলের রস সম্পন্ন গর্ভথলি দ্বারা সংরক্ষিত।এর দ্বারা বুঝা যায় যে,ভ্রূণ একটি সুরক্ষিত স্থানে অবস্থান করে।
এই স্বল্প্ পরিমাণ তরল পর্দাথ পরে (আরবী ) বা মাংশপেশীতে পরিণত হয়।‘আলাকা’শব্দের অর্থ হল,যা আটকে থাকে।ভিন্ন কথায় বলা যায়,এটা যেন ‘জোঁক সদৃশ নির্যাস।’এই উভয় অর্থই বৈজ্ঞানিকভাবে গৃহীত।প্রাথমিক পর্যায়ে,ভ্রূণ দেয়ালে আটকে থাকে এবং দেখতে জোঁকের আকৃতি মনে হয়।আর এটা রক্তচোষা জোঁকের মত আচরণ করে।মূলত তা মায়ের গর্ভফুলের মাধ্যমে রক্ত সরবরাহ লাভ করে। (আরবী ) শব্দের ৩য় আরেকটি অর্থ হল,রক্তপিণ্ড।গর্ভ রক্তপিণ্ডের স্তরে থাকা অবস্থায় অর্থাৎ গর্ভেব ৩য় ও ৪র্থ সপ্তাহে রক্তপিণ্ডে বদ্ধ থলিতে অবস্থান করে।ফলে,ভ্রূণ রক্তপিণ্ডের আকার গ্রহণ করে এবং একই সময়ে তা জোঁকের আকৃতিও ধারণা করে।কোরআনের জ্ঞানের সাথে বিজ্ঞানের সত্য লাভের জন্য মানুষের চেষ্টাকে তুলনা করা যায়।
১৬৭৭ সালে, সর্বপ্রথম বিজ্ঞানী হাম এবং লিউওয়েন হোয়েক মাইক্রোষ্কোপ দ্বারা মানবীয় শুক্র কোষ পর্যবেক্ষণ করেন।তারা ভেবেছিলেন যে,শুত্রুকোষ যা ক্ষুদ্রকৃতির মানুষ হিসেবে বিবেচ্য তা নতুন শিশু জন্মের জন্য জরায়ুতে বিকাশ লাভ করে।এটা perforation তত্ব হিসেবে পরিচিত।কিন্তু বিজ্ঞানীরা যখন আবিষ্কার করলেন যে শুক্রের চাইতে ডিম বড়,তখন বিজ্ঞানী ডি গ্রাফ সহ অন্যরা ভাবলেন যে,ডিমের মধ্যে ভ্রূণ ক্ষুদ্রাকৃতিতে অবস্থান করে।পরবর্তীতে অর্থাৎ ১৮০০ শতাব্দীতে,বিজ্ঞানী মাওপেরটুইস মাতা পিতার দ্বৈত উওরাধিকার তত্ব (theory of biparental inheritence)প্রচার করেন।(আরবী) পরে (আরবী) -য় রূপান্তরিত হয়। মুদগাহ’র অর্থ হল, ১। যা দাঁত দিয়ে চিবানো হয় এবং ২। যা আঠালো ও ছোট এবং যা মুখে দেয়া হয় । যেমন গাম । এই দুটিই ব্যাখ্যাই বৈজ্ঞানিক ভাবে বিশুদ্ধ । অধ্যাপক কেইথ মুর প্লাষ্টার সীল সিল নিয়ে একে ভ্রূণের প্রাথমিক পর্যায়ের আকৃতির মত বানিয়ে দাঁত চিবান এবং একে মুগদায় পরিনত করার চেষ্টা করেন। তিনি এর মাধ্যমে এর সাথে প্রাথমিক পর্যায়ের ভ্রূণের ছবিকে তুলনা করেন। তার চিবানো ঐ প্লাষ্টার সীল somites এর মত দেখা গেল যা মেরুদণ্ডের প্রাথমিক গঠন স্তর।
এই (আরবী) পরবর্তীতে (আরবী) বা হাড়ে পরিনত হয়।বাস্তবেই হাড় কে গোশত বা মাংসপেশী পরানো হয়েছে।আল্লাহ পরে একে অন্য সৃষ্টিতে পরিনত করেন।
অধ্যাপক মশর্অল জনসন যুক্তরাষ্টের একজন খাতনামা বিজ্ঞানী Anatomy dept-এর প্রধান এবং ফিলাডেলফিয়ার থমাস জেফারসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দানিয়েল ইনিষ্টিটিউটের পরিচালক।তাকে ভ্রূণতত্ব সম্পর্কে কোরআনের এই আয়াতের উপর মন্তব্য করার অনুরোধ করা হলে, তিনি প্রথমে বলেনঃ ভ্রূণের পর্যায় গুলো সম্পর্কে কোরআনের বর্ণনা গুলো শুধুমাত্র সমকালের সংঘটিত কোন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাবেনা। সম্ভবত মোহাম্মদ (ছঃ) এর নিকট খুবই শক্তিশালী কোন মাইক্রোস্কোপ ছিল। যখন তকে স্মরন করিয়ে দেয়া হলো যে, কোরআন ১৪০০ বছর আগে অবতীর্ণ হয়েছে, আর মাইক্রোস্কোপ আবিস্কার হয়েছে নবী মোহাম্মদ (ছঃ) এর বহু শতাব্দী পর।তখন তিনি হেসে দেন, এবং স্বীকার করেন যে, প্রথম দিকে আবিস্কার মাইক্রোস্কোপ ১০ বারের বেশী সময়ের ক্ষুদ্র জিনিসকে বড় করে দেখতে পারেনী এবং যাও দেখিয়েছে, তাও আবার পরিস্কার ছবি দেখাতে পারেনি।তারপর তিনি বলেন ,মোহাম্মদ (ছঃ) যখন কোরআন পাঠ করেন, তখন তার উপর ঐশী বাণী নাযিল হওয়ার বিষয়ে কোন বিরোধ নেই।
ডঃ কেইথ মুর বলেন বিশ্বে গৃহীত আধুনিক কালের ভ্রূণ বিষয়ক উন্নয়ন স্তর সহজে বোধগম্য নয়।কেননা এতে স্তর গুলোকে সংখ্যাতাত্বিক ভাবে পেশ করা হয়েছে। যেমন , ১ম স্তর ইত্যাদি। কিন্তু কোরআনে বর্ণিত স্তরগুলো পার্থক্য বোধক এবং সহজে এর আকার -আকৃতি চিহ্নিত করা যায়।এইগুলো জন্মপূর্ব বিকাশের বিভিন্ন স্তরের উপর ভিত্তিশীল ও বোধগম্য এবং বাস্তব, বৈজ্ঞানিক ও মার্জিত বর্ণনার অধিকারী।
নীচের উল্লেখিত আয়াতে ও মানুষের ভ্রুণ বিকাশের স্তরগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহ বলেনঃ
“সে কি স্থলিত বীর্য ছিল না? অতঃপর সে ছিল রক্তপিণ্ড, অতঃপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সুবিন্যাস্ত করেছেন।অতঃপর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন যুগল নর ও নারী।” - সূরা কিয়ামাহ - ৩৭-৩৯
আল্লাহ আরো বলেনঃ
“যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাবে সুবিন্যাস্ত করেছেন এবং সুষম করেছেন। তিনি তোমাকে তাঁর ইচ্ছামত আকৃতিতে গঠন করেছেন। -সূরা আল ইনফিতার- ৭-৮।

৩.শ্রবন ও দৃষ্টিশক্তির অনুভূতি:
বিকাশমান মানবিক ভ্রূণের মধ্যে প্রথম যে অনুভূতিটি সৃষ্টি হয় সেটি হল শ্রবন শক্তির অনুভূতি । ২৪ সপ্তাহ পর ভ্রূণ, শব্দ শুনতে পায়।তারপর দৃষ্টি শক্তি হয় এবং ২৮ সপ্তাহ পরে রেটিনা বা অক্ষিপট আলোর গতি সংবেদনশীল হয়। আল্লাহ কোরআন মজীদে বলেনঃ
“এবং তোমাদেরকে দেন কান, চোখ ও অন্তর ।” সূরা সাজদাহ -৯
আল্লাহ আরো বলেনঃ
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে - এভাবে তাকে পরীক্ষা করবো । অতঃপর তাকে দিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি ।”- সূরা দাহর-২
আল্লাহ আরো বলেনঃ
“তিনি তোমাদের কান, চোখ অন্তঃকরন সৃষ্টি করেছেন, তোমরা খুবই অল্প কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে থাক।” -সূরা আল- মোমেনুন -৭৮
উপরোক্ত আয়াতসমূহের দৃষ্টিশক্তির আগে শ্রবণ শক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বুঝা যায় আধুনিক ভ্রূণ বিজ্ঞানের সাথে কোরআনের বর্ণনায় পরিপূণ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পৃথিবী, সূর্য, চাঁদ সম্পর্কে কোরআন ও বিজ্ঞান এর আলো

آپ کو کیسے معلوم کہ اللہ آپ سے ناراض ہے؟

قرآن کا چیلنج جدید سائنس اور قرآن پاک