অযূ সম্পর্কে সহীহ হাদীস। পরিচ্ছদ ৯৭-১০০, অধ্যায় ৪_অযূ। সহীহ বুখারী শরীফ, হাদিস নং ১৩৭-৪০



১.পরিচ্ছদঃ ৯৭। পবিত্রতা ছাড়া সালাত কবুল হয় না

২.পরিচ্ছদঃ ৯৮। উযূর ফযিলত এবং উযূর প্রভাবে যাদের উযুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উজ্জ্বল হবে

৩.পরিচ্ছদঃ ৯৯। সন্দেহের কারনে উযূ করতে হয় না যতক্ষণ না (উযূ ভঙ্গের) নিশ্চিত বিশ্বাস জন্মে

৪.পরিচ্ছদঃ ১০০। হালকাভাবে উযূ করা ।




১৩৭। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল-হানযালী (রহঃ)... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘যে ব্যাক্তির হাদস হয় তাঁর সালাত (নামায/নামাজ) কবুল হবে না, যতক্ষন না সে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে। হাযরা-মাওতের এক ব্যাক্তি বলেন, ‘হে আবূ হুরায়রা ! হাদস কী? তিনি বলেন, ‘নিঃশব্দে বা সশব্দে বায়ু বের হওয়া।


পরিচ্ছদঃ ৯৮। উযূর ফযিলত এবং উযূর প্রভাবে যাদের উযুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উজ্জ্বল হবে


১৩৮। ইয়াহিয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ)...... নু‘আয়ম মুজমির (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ)- এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। তারপর তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে বললেনঃ ‘আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে যে, উযূ (ওজু/অজু/অযু)র প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল থাকবে উজ্জ্বল। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারে, সে যেন তা করে।



পরিচ্ছদঃ ৯৯। সন্দেহের কারনে উযূ করতে হয় না যতক্ষণ না (উযূ ভঙ্গের) নিশ্চিত বিশ্বাস জন্মে


১৩৯। ‘আলী (রহঃ)...... ‘আব্বাদ ইবনু তামীম (রহঃ)- এর চাচা থেকে বর্ণিত, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর কাছে এক ব্যাক্তি সম্পর্কে বলা হল যে, তার মনে হয়েছিল যেন সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে কিছু হয়ে গিয়েছিল। তিনি বললেনঃ সে যেন ফিরে না যায়, যতক্ষণ না শব্দ শোনে বা গন্ধ পায়।


পরিচ্ছদঃ ১০০। হালকাভাবে উযূ করা


১৪০। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ইবনু ‘আব্বাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়েছিলেন, এমনকি তাঁর নিঃশ্বাসের শব্দ হতে লাগল। এরপর তিনি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। সুফিয়ান (রহঃ) আবার কখনো বলেছেন, তিনি শুয়ে পড়লেন, এমনকি তাঁর নিঃশ্বাসের শব্দ হতে লাগল। এরপর তিনি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। অন্য সূত্রে সুফিয়ান (রহঃ)ইবনু ‘আব্বাদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আমি এক রাতে আমার খালা মায়মূনা (রাঃ) - এর কাছে রাত কাটালাম।

রাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে উঠলেন এবং রাতের কিছু অংশ চলে যাবার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঝুলন্ত মসক থেকে হাল্কা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন। রাবী ‘আমর (রহঃ) বলেন, তখন তিনি যেভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছেন আমিও সেভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলাম এবং এসে তাঁর বাঁয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। সুফিয়ান (রহঃ) কখনো (বাম) শব্দের স্থলে বলতেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ঘুরিয়ে তাঁর ডান দিকে দাঁড় করালেন। এরপর আল্লাহর যতক্ষণ ইচ্ছা ততক্ষণ তিনি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এরপর কাত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন, এমনকি তাঁর নাক ডাকতে থাকল। এরপর মুয়াযযিন এসে তাঁকে সালাত (নামায/নামাজ)-এর কথা জানিয়ে দিলেন। তিনি তাঁর সঙ্গে সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য রওয়ানা হলেন এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন, কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না। আমরা ‘আমর (রাঃ) –কে বললামঃ লোকে বলে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – এর চোখ ঘুমায় কিন্তু তাঁর অন্তর ঘুমায় না। তখন ‘আমর (রাঃ) বলেন, ‘আমি উবায়দ ইবনু ‘উমায়র (রহঃ) – কে বলতে শুনেছি, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনের স্বপ্ন ওহী। এরপর তিনি তিলাওয়াত করেন- ‘আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে যবেহ করছি। (৩৭:১০২)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পৃথিবী, সূর্য, চাঁদ সম্পর্কে কোরআন ও বিজ্ঞান এর আলো

آپ کو کیسے معلوم کہ اللہ آپ سے ناراض ہے؟

قرآن کا چیلنج جدید سائنس اور قرآن پاک